ফেডের সিদ্ধান্তের আগে বিটকয়েনের দাম ৮০,০০০ ডলারের নিচে

মঙ্গলবার বিটকয়েনের দাম ০.৪% কমে প্রায় ৭৯,৭০০ ডলারে নেমেছে এবং ৮০,০০০ ডলারের নিচে চলে গেছে। এশিয়ার প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে উত্থান হলেও ক্রিপ্টো বাজার সেই গতি ধরতে পারেনি। ইথারের দাম কমেছে ০.৫%, আর DeFi সূচক নেমেছে ১.৮%—CoinDesk-এর সূচকগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় পতন। দক্ষিণ কোরিয়ার Kospi বেড়েছে ৩.১%, তবে সেই উত্থান ক্রিপ্টোর দাম বাড়াতে পারেনি। মঙ্গলবার শুরু হওয়া ফেডারেল রিজার্ভের দুই দিনের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে বাজার। সুদের হারের সিদ্ধান্ত বুধবার জানানো হবে। CME FedWatch অনুযায়ী, সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯০%। এ বছর আরেক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, তা খুঁজবেন ট্রেডাররা। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্পট বিটকয়েন ETF-গুলোতে ১১০ মিলিয়ন ডলারের নিট প্রবাহ এসেছে, ফলে টানা দুই দিনের নিট বহির্গমন শেষ হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ক্রিপ্টো ফিউচারসের লেনদেনের পরিমাণ ১৮% বেড়ে ১৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, আর ওপেন ইন্টারেস্ট সামান্য ০.৯৫% বেড়েছে। একই সময়ে বিটকয়েন ও ইথারের দাম কমেছে এবং ফিউচারসের ওপেন ইন্টারেস্ট বেড়েছে—এতে ইঙ্গিত মেলে, দরপতনের সময় কিছু ট্রেডার নতুন পজিশন নিয়েছেন। তবে অপশন বাজারে দাম কমার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার চাহিদা দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া বিটকয়েন অপশন পজিশনটি ছিল ২৫ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া ৭২,০০০ ডলারের পুট অপশন।
Bearish
ক্রিপ্টোর তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিম্নমুখী: বহুল নজরে থাকা ৮০,০০০ ডলারের স্তরের নিচে নেমেছে বিটকয়েন, আর বাজার এশীয় প্রযুক্তি খাতের শক্তিশালী উত্থানকে অনুসরণ করতে পারেনি। ইথার ও DeFi টোকেনের দুর্বলতা এবং দরপতনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে অপশনের চাহিদা—সবই ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন। দাম কমার সময় ফিউচারসের ওপেন ইন্টারেস্ট বাড়া দরপতনের মধ্যে কেনাকাটার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে দাম আরও কমলে এতে লিকুইডেশনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিটকয়েন ETF-এ ইতিবাচক অর্থপ্রবাহ কিছুটা ভারসাম্য আনছে, যদিও এক দিনের অর্থপ্রবাহ টেকসই প্রবণতা প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। নিকট মেয়াদে ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তই প্রধান অনুঘটক। আগের সুদের হার ঘোষণাগুলোর মতো, হার অপরিবর্তিত থাকলেও সঙ্গে দেওয়া দিকনির্দেশনার প্রতিক্রিয়ায় দাম তীব্রভাবে নড়াচড়া করতে পারে। আরও কঠোর নীতির প্রত্যাশা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, আর কম কড়া সংকেত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। স্বল্প মেয়াদে বিটকয়েন ৮০,০০০ ডলারের স্তর পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না এবং ফেডের মন্তব্য—এ দুটিই সম্ভবত বাজারের মনোভাব নির্ধারণ করবে। দীর্ঘ মেয়াদে ETF-এ টেকসই অর্থপ্রবাহ এবং স্থিতিশীল হতে থাকা সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দামকে সহায়তা করতে পারে; তবে হেজিংয়ের স্থায়ী চাহিদা ও সুদের হার নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা বাজারকে অস্থিরতার ঝুঁকিতে রাখছে। নিম্নমুখী শ্রেণিবিন্যাসটি বর্তমান মূল্যগত গতিবিধি ও বাজারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নিশ্চিত করে না।