ফেডের বৈঠকের আগে বিটকয়েনের দাম ৮০,০০০ ডলারের নিচে

এশিয়ার লেনদেনে বিটকয়েনের দাম প্রায় ২% কমে প্রায় ৭৯,৮০০ ডলারে নেমেছে। বুধবারের ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমিয়েছেন। ইথার ও এক্সআরপি—দুটিরই দাম প্রায় ৩% কমেছে; সোলানা, ডোজকয়েন, জিক্যাশ, হাইপারলিকুইড ও বিএনবিও দর হারিয়েছে। ট্রন সামান্য বেড়েছে। ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ ডিসেম্বরে সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেন কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নজর রাখছেন। সুদের হার বাড়লে তারল্য সংকুচিত হতে পারে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ওপর চাপ পড়তে পারে। এশিয়ার প্রযুক্তি শেয়ারের দুর্বলতাও সতর্ক মনোভাব বাড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পির ১% পতন—গোল্ডম্যান স্যাকস সূচকটির ১২ মাসের লক্ষ্য ২৫% কমানোর পর। বিটকয়েনকে ৮২,৫০০ ডলারের স্তর পুনরুদ্ধার করতে হবে—গত বৃহস্পতিবার যে স্তরের নিচে নেমেছিল—যাতে এই পতনকে শুধু সাময়িক বিরতি বলে মনে করার যুক্তি জোরদার হয়। ফেডের দিকনির্দেশনা এবং সামগ্রিক বাজার-মনোভাব নিকট ভবিষ্যতের লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে।
Bearish
তাৎক্ষণিক বাজারসংকেতটি নেতিবাচক। ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের আগে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ কমালে বিটকয়েন ৮০,০০০ ডলারের নিচে নেমে যায়, এবং এর সঙ্গে বেশির ভাগ বড় টোকেনের দামও পড়ে। নিবন্ধে ডিসেম্বরে সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধিকে একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে: সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও কঠোর করতে, তারল্য কমাতে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো অস্থির সম্পদকে কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। এশিয়ার দুর্বল প্রযুক্তি শেয়ার বাজারের সামগ্রিক ঝুঁকি-বিমুখ মনোভাবকে আরও জোরদার করেছে। স্বল্পমেয়াদে ব্যবসায়ীরা ফেডপ্রধানের মন্তব্য, বিটকয়েন ৮২,৫০০ ডলারে ফিরে যেতে পারে কি না এবং বিক্রির চাপ বড় টোকেনগুলোতেও ছড়ায় কি না—এসবের দিকে নজর রাখবেন। ওই স্তরের ওপরে ফিরে আসা ইঙ্গিত দিতে পারে যে ক্রেতারা দরপতন সামাল দিচ্ছেন। অন্যদিকে, দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে বা ফেড কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলে ঝুঁকি আরও কমানোর পদক্ষেপ আসতে পারে। সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সময় এমন পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টো বাজারে প্রায়ই মনোভাবনির্ভর তীব্র ওঠানামা দেখা গেছে; তবে দামের দিক নির্ভর করে নীতিগত দিকনির্দেশনা বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কঠোর, নাকি বেশি নমনীয়—তার ওপর। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ততটা নিশ্চিত নয়। একটি বৈঠকই বাজারের প্রবণতা নির্ধারণ করে না; মূল্যস্ফীতি, তারল্য, প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা এবং সামগ্রিক ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখিত দরপতন ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে নিকট ভবিষ্যতের ঝুঁকির ভারসাম্য নেতিবাচক, তবে সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা বদলালে বা বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই চাপ উল্টে যেতে পারে।