বাইন্যান্স হ্যাকের পর বিটকয়েনের দরপতন, এদিকে এশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও বড় ধস

Binance-এ বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের পর বিটকয়েন ৮০,০০০ ডলারের ওপরে থেকে নেমে প্রায় ৭৬,৪৬০ ডলারে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছায়, এরপর ৭৭,০০০–৭৮,০০০ ডলারের মধ্যে লেনদেন হয়। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ঘটনাটিতে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জড়িত ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং বিশ্লেষকেরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট TraderTraitor গোষ্ঠীকে সন্দেহ করছেন। বিটকয়েন প্রায় ৭৭,০০০ ডলারের সাপোর্ট পরীক্ষা করছে; পরবর্তী স্তরগুলো প্রায় ৭৫,৮০০ ও ৭৩,০০০ ডলারে। অপশন ব্যবসায়ীরাও ৭২,০০০–৭৫,০০০ ডলারের দিকে দরপতনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা খুঁজছেন। বাজারের মনোভাব ভয় সূচকে ৩০-এ নেমে এসেছে। কিছু ব্যবসায়ীর ধারণা, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে Binance-এর নিজস্ব তহবিল ও SAFU রিজার্ভ ব্যবহার করলে স্পট বাজারে বাধ্যতামূলক কেনাকাটা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, Standard Chartered-এর জিওফ্রি কেনড্রিক সতর্ক করেছেন যে চুরি হওয়া সম্পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারের ওপর চাপ বজায় রাখতে পারে। উত্তোলনের সুযোগ এবং অর্থপ্রবাহের দ্বিতীয় দফা বহিঃপ্রবাহের ঝুঁকি নিকটমেয়াদে প্রধান উদ্বেগের বিষয়। ইথেরিয়ামের দাম ২,২০০ ডলারের নিচে নেমেছে, আর এর স্পট ETF-গুলোতে ১০৫ মিলিয়ন ডলারের নিট অর্থবহিঃপ্রবাহ হয়েছে। নিবন্ধ অনুযায়ী, স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীরা ২.৩৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ আটকে দেওয়ার পর হ্যাকার সম্পদ ETH-তে রূপান্তর করে, যা অস্থিরতা ও বিক্রির চাপ বাড়ায়। BNB ৮ শতাংশের বেশি কমেছে, আর খেলাপি ঋণের আশঙ্কায় Aave নতুন ঋণ দেওয়া ও নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। বিপরীতে, Trade[XYZ]-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পারপেচুয়াল কন্ট্রাক্ট চালুর পরিকল্পনায় Intercontinental Exchange সমর্থন দেওয়ার পর Hyperliquid-এর HYPE প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ার প্রযুক্তি শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা গেছে: দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI ৩.৫৩ শতাংশ, জাপানের Nikkei 225 ২.১২ শতাংশ এবং চীনের ChiNext ও STAR 50 সূচক যথাক্রমে ৪.১৩ ও ৫.৪৮ শতাংশ কমেছে। ভোক্তা খাতের শেয়ারের নেতৃত্বে হংকংয়ের Hang Seng ১.৪৬ শতাংশ বেড়েছে। ক্রিপ্টো ব্যবসায়ীদের জন্য বিটকয়েনের সাপোর্ট স্তর, Binance থেকে উত্তোলন-সংক্রান্ত খবর এবং এক্সচেঞ্জ ও ঋণবাজারে সংক্রমণের লক্ষণগুলোই প্রধান ঝুঁকি সূচক।
Bearish
সামগ্রিকভাবে নিকটমেয়াদি সংকেতটি নিম্নমুখী, কারণ Binance-এ হ্যাকের ফলে সম্পদ পুনরুদ্ধার, উত্তোলন এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিটকয়েনের দ্রুত দরপতন, পুট অপশনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং নিম্ন সেন্টিমেন্ট সূচক প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। Ethereum-এর দাম $2,200-এর নিচে নেমে যাওয়া, ETF থেকে অর্থপ্রবাহ, BNB-এর দরপতন এবং Aave-তে ঋণদান স্থগিত হওয়া—সবই বিটকয়েনের বাইরেও চাপের প্রমাণ যোগ করছে। Binance থেকে উত্তোলন নির্বিঘ্নে আবার শুরু হলে এবং এক্সচেঞ্জটি সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিলে বাধ্যতামূলক সম্পদ কেনাকাটা দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত অনুঘটক নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ একটি পাল্টা-প্রভাব। Mt. Gox ও FTX-সহ অতীতের এক্সচেঞ্জ ব্যর্থতা ও হ্যাক দেখায় যে গ্রাহকদের অর্থে প্রবেশাধিকার এবং সম্পদ পুনরুদ্ধার নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থপ্রবাহের বহির্গমন ঘটাতে পারে এবং সম্পূর্ণ আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জানা যাওয়ার আগেই বিক্রির চাপ বাড়াতে পারে। বর্তমান ঘটনাটি এ দিক থেকে আলাদা যে নিবন্ধে বলা হয়েছে, Binance ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং চুরি হওয়া কিছু স্টেবলকয়েন জব্দ করা হয়েছে; তবে বাকি সম্পদের পরিমাণ ও সেগুলোর পরিণতি এখনো অনির্ধারিত। স্বল্পমেয়াদে ট্রেডাররা বিটকয়েনের $75,800 ও $73,000 সমর্থন-এলাকা, $72,000–$75,000 অপশন অঞ্চল এবং Binance থেকে উত্তোলনসংক্রান্ত খবরের দিকে নজর রাখবেন। সমর্থনের নিচে টেকসইভাবে নেমে গেলে লিকুইডেশন ও আরও ঝুঁকি কমানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে; নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পুনরায় শুরু এবং নিশ্চিত পরিশোধ পরিকল্পনা আতঙ্ক কমাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে, ঘটনাটি বিকেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে—নিবন্ধে উল্লেখিত Hyperliquid-এর প্রতি আগ্রহ এবং UNI-র বিষয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তার ইঙ্গিত দেয়। তবে এই পরিবর্তন বৃহত্তর বাজারঝুঁকি দূর করে না, আর নিবন্ধে উল্লেখিত এশীয় প্রযুক্তি শেয়ারের একই সময়ের ব্যাপক বিক্রি আরও বিস্তৃত ঝুঁকি-বিমুখ পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।