ETF থেকে অর্থের বহিঃপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও বিটকয়েনের দাম ৭৮,০০০ ডলারের ওপরে ফিরেছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় বিটকয়েনের দাম প্রায় $75,600-এ নেমে গিয়েছিল। পরে অস্থিরতা কমে এবং শেয়ারবাজারের ফিউচার ঘুরে দাঁড়ালে দাম আবার প্রায় $78,300–$78,354-এ ওঠে। তবে এই উত্থান এখনো দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করেনি: যুক্তরাষ্ট্রের স্পট বিটকয়েন ETF-গুলো তিনটি সেশনে প্রায় $1.16 বিলিয়ন অর্থের বহিঃপ্রবাহ দেখেছে, যার মধ্যে 3 নভেম্বর ছিল $115.6 মিলিয়ন। ওই দিনের বহিঃপ্রবাহের $95 মিলিয়ন এসেছে BlackRock-এর IBIT থেকে, যা আগের দিনের $405.3 মিলিয়নের তুলনায় কম। অপশন বাজারে তুলনামূলক ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা গেছে। নির্বাচনের দিনে বিটকয়েনের ব্লক ট্রেডের পরিমাণ ছিল প্রায় $660 মিলিয়ন, যার মধ্যে প্রায় $420 মিলিয়ন ছিল কল অপশন কেনা। তবে কিছু লেনদেন ঝুঁকি হেজ করার জন্য হয়ে থাকতে পারে; এগুলো স্পট বাজারে নতুন চাহিদা ফেরার প্রমাণ নয়। বিটকয়েনের ইমপ্লায়েড ভোলাটিলিটি 6% কমেছে, আর Hyperliquid-এ Nasdaq 100 ও S&P 500-এর পারপেচুয়াল ফিউচারে রাতারাতি লেনদেনের পরিমাণ ছিল $848 মিলিয়ন—সমতুল্য টোকেনাইজড স্পট পণ্যের লেনদেনের চেয়ে অনেক বেশি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচন-সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা CLARITY Act-এর মতো আইন প্রণয়ন বিলম্বিত করতে পারে, বিশেষ করে এক্সচেঞ্জ ও টোকেন ইস্যুকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে; বিটকয়েনের ওপর সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলার, ট্রেজারি বন্ডের ফলন, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি, প্রযুক্তি খাতের পারফরম্যান্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থপ্রবাহসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ট্রেডাররা $79,500–$80,000-এর কাছাকাছি এবং এরপর $81,319–$82,000-এ প্রতিরোধের মাত্রা দেখছেন; সমর্থন রয়েছে $75,600–$76,000-এর কাছে। এর নিচে $75,000-এর আশপাশ এবং প্রায় $73,200-এ 200 দিনের চলমান গড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্য ও ETF-এর অর্থপ্রবাহ বিটকয়েনের পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।
Neutral
প্রায় ৭৫,৬০০ ডলার থেকে ৭৮,০০০ ডলারের ওপরে বিটকয়েনের পুনরুদ্ধার, অস্থিরতা কমে আসা এবং কল অপশন কেনা স্বল্পমেয়াদে সহায়তা দিচ্ছে। তবে সংকেতগুলো চূড়ান্ত নয়: অপশন লেনদেন ঝুঁকি-সুরক্ষার প্রতিফলন হতে পারে, আর তিনটি সেশনে স্পট ETF থেকে প্রায় ১.১৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থপ্রবাহ বেরিয়ে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। ৭৯,৫০০–৮০,০০০ ডলারের কাছাকাছি প্রতিরোধও তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বগতিকে সীমিত করতে পারে। ওই সীমার ওপরে টেকসইভাবে উঠতে পারলে পুনরুদ্ধারের পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হবে, আর ৭৫,৬০০–৭৬,০০০ ডলারের সমর্থন-অঞ্চলের নিচে নেমে গেলে আরও নিচের স্তরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিকট ভবিষ্যতে ETF-এ অর্থপ্রবাহ, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান-তথ্য, ট্রেজারি ইল্ড, ডলার এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতি-প্রত্যাশার প্রতি বিটকয়েনের সংবেদনশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা ক্রিপ্টো শিল্পের কিছু অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে সারাংশগুলো থেকে বোঝা যায়, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার তুলনায় বিটকয়েনের ওপর এর সরাসরি প্রভাব কম। পুনরুদ্ধারটি আশাব্যঞ্জক হলেও ধারাবাহিক স্পট কেনাকাটার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি বলে, দামের ওপর সামগ্রিক প্রভাবকে নিরপেক্ষ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।