বিটকয়েন বাজারের পূর্বাভাস: BTC পুনরুদ্ধারের সঙ্গে ট্র্যাডফাই পারপেচুয়ালসের উত্থান

Glassnode ও Fasanara Digital-এর ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রাতিষ্ঠানিক বাজার প্রতিবেদনে বিটকয়েন বাজারের পরিবর্তনশীল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে: গত বছরের বেশির ভাগ সময় ক্রিপ্টো লেনদেনের কার্যক্রম দুর্বল থাকলেও স্টেবলকয়েন নিষ্পত্তি, টোকেনাইজড শেয়ার এবং প্রচলিত সম্পদের সঙ্গে যুক্ত পারপেচুয়াল চুক্তির চাহিদা বাড়তে থাকে। আগস্টের একটি শর্ট স্কুইজ বিটকয়েনের দামকে অন-চেইন খরচের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডের ওপরে নিয়ে যায়: সব টোকেনের গড় ক্রয়মূল্য, সক্রিয়ভাবে প্রচলিত টোকেনগুলোর ক্রয়মূল্য এবং সাম্প্রতিক ক্রেতাদের ক্রয়মূল্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব স্তরের ওপরে টিকে থাকা আরও স্বাস্থ্যকর বুল মার্কেটের লক্ষণ, তবে ধারাবাহিক শক্তির জন্য এগুলোকে সাপোর্ট হিসেবে ধরে রাখা জরুরি। ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও প্রচলিত সম্পদের পারপেচুয়াল চুক্তি জনপ্রিয় হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পাঁচটি বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২.২৮ ট্রিলিয়ন ডলার—মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ২০.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লেনদেনের প্রায় ১১ শতাংশ। Hyperliquid-এ স্টক, সূচক ও কমোডিটির পারপেচুয়াল চুক্তির লেনদেনের পরিমাণ বিটকয়েন পারপেচুয়াল ট্রেডিংয়ের চার-পঞ্চমাংশেরও বেশি হয়; এপ্রিলেই প্রথমবার এটি বিটকয়েনকে ছাড়িয়ে যায়। প্রতিবেদনটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অন-চেইন মূলধনের প্রবাহ, তারল্য, ডেরিভেটিভস, ETF প্রবাহ এবং ডিজিটাল-অ্যাসেট ট্রেজারির ধারণও পর্যালোচনা করে। এসব পরিবর্তন বাজারের অবকাঠামো সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়, তবে বিটকয়েন বাজারের পুনরুদ্ধার টেকসই কি না তা নির্ধারণে প্রতিবেদনের সূচকগুলো—শুধু লেনদেনের পরিমাণের তুলনা নয়—গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Neutral
প্রতিবেদনটিতে ইতিবাচক এবং সতর্কতামূলক—দুই ধরনের সংকেতই রয়েছে। তাই এর বাজারগত প্রভাবকে সরাসরি লেনদেনের অনুঘটক হিসেবে না দেখে নিরপেক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। ইতিবাচক দিক হলো, বিটকয়েন অন-চেইন খরচের তিনটি মানদণ্ডের ওপরে ফিরে এসেছে। এই অগ্রগতি ধারকদের আস্থা বাড়াতে পারে এবং ওই স্তরগুলো সমর্থন হিসেবে টিকে থাকলে সাম্প্রতিক ক্রেতাদের বিক্রি করার ঝুঁকি কমাতে পারে। স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং প্রচলিত সম্পদের পারপেচুয়াল ট্রেডিং বৃদ্ধি পাওয়াও ইঙ্গিত দেয় যে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের ব্যবহারক্ষেত্র বাড়াচ্ছে, যদিও ক্রিপ্টো লেনদেনের কার্যকলাপ মন্দা রয়েছে। তবে, নিবন্ধটিতে ব্যাপকভিত্তিক বুল মার্কেট পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। এক্সচেঞ্জে ২.২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের লেনদেনের পরিমাণটি মার্কিন ইকুইটির সঙ্গে তুলনা; এটি বিটকয়েনে নিট অর্থপ্রবাহের প্রমাণ নয়। Hyperliquid-এ প্রচলিত সম্পদের পারপেচুয়াল ট্রেডিং পণ্যটির ব্যবহার বাড়ার ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু তা থেকে BTC-র চাহিদা তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা যায় না। বিটকয়েন পুনরুদ্ধার করা খরচের স্তরগুলোর ওপরে টিকে থাকতে পারে কি না, তার পাশাপাশি স্পট লিকুইডিটি, ETF প্রবাহ, ডেরিভেটিভসের পজিশনিং, ফান্ডিং রেট এবং লিকুইডেশনের তথ্যের দিকেও ট্রেডারদের নজর থাকার সম্ভাবনা বেশি। খরচের মানদণ্ডগুলোর নিচে আবার নেমে গেলে নিম্নমুখী চাপ ফিরে আসতে পারে; আর শক্তিশালী স্পট চাহিদার সঙ্গে এই স্তরগুলোতে ধারাবাহিক সমর্থন থাকলে পুনরুদ্ধারটি আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে। ঐতিহাসিকভাবে, বিয়ারিশ পজিশন লিকুইডেট হলে শর্ট স্কুইজ থেকে তীব্র র‍্যালি শুরু হতে পারে। তবে স্পট ক্রেতাদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ এবং আরও ব্যাপক মূলধন প্রবাহের সমর্থন না থাকলে এমন উত্থান সব সময় স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় পরিণত হয়নি। স্বল্প মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্তর এবং ডেরিভেটিভসের পজিশনিংয়ের প্রতি বাজার সংবেদনশীল থাকবে বলে আশা করা যায়। দীর্ঘ মেয়াদে, টোকেনাইজড সম্পদের বাজার ও স্টেবলকয়েনের ব্যবহার বাড়লে ক্রিপ্টো বাজারের অবকাঠামো শক্তিশালী হতে পারে, তবে শুধু এই প্রতিবেদন থেকে বুলিশ প্রবণতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যায় না।